এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
এই তারিখে
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
৫০টিরও বেশি ছবির প্রযোজক এবং ২২টি ছবির পরিচালক তিনি। তিনি নির্মাণ করেছেন 'দিওয়ার', 'ত্রিশূল' - এর মতো সামাজিক ও মারদাঙ্গা ছবি। কিন্তু ইয়াশ চোপড়া মানেই স্বপ্নীল প্রেমের বর্ণালী জগত, যেখানে অনিন্দ্য সুন্দরী ও সুদর্শন পুরুষেরা প্রেমে মগ্ন হয়ে ভুলে যান কঠিন বাস্তবতার কথা।
২১ অক্টোবর এই মহান নির্মাতার প্রয়াণ দিবস। যুগে যুগে দর্শককে জীবন-মরণের অতীত মহান প্রেমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া ইয়াশ চোপড়ার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রেমের ছবির কথা তুলে ধরা হলো।
এ ছবি দিয়েই পরিচালক হিসেবে ইয়াশ চোপড়ার যাত্রা শুরু হয়। এর আগে তিনি ছিলেন সহকারী পরিচালক। 'দাগ' মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। ছবির প্রযোজকও তিনি ছিলেন। এ ছবির মাধ্যমেই জন্ম হয় ইয়াশরাজ ফিল্মসের। রাজেশ খান্না, শর্মিলা ঠাকুর ও রাখি অভিনীত ছবিটি ছিল আবেগ, রোমাঞ্চ ও চমকে ভরপুর। ছবির কাহিনিতে দেখা যায় সুনীল কোহলি (রাজেশ খান্না) ভালোবেসে বিয়ে করেন সোনিয়াকে (শর্মিলা ঠাকুর)। মধুচন্দ্রিমার পথে ঝড়-বৃষ্টিতে তারা আশ্রয় নেন সুনীলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাংলোতে। সেখানে বসের ছেলে ধীরাজ (প্রেম চোপড়া) সোনিয়াকে ধর্ষণ করতে চায়। সোনিয়াকে বাঁচাতে গিয়ে সুনীলের হাতে খুন হয়ে যায় ধীরাজ। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। কিন্তু কারাগারে নেয়ার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে বেঁচে যায় সে এবং নতুন নামে নতুন জীবন শুরু করে। সুনীলের সন্তানের মা সোনিয়ার সঙ্গে বহু বছর পর দেখা হয় সুধীর নামধারী সুনীলের। সে বিয়ে করেছে চাঁদনি (রাখি) নামে এক ধনী নারীকে। তিন জনের মধ্যে সৃষ্টি হয় আবেগঘন সংকট। মেলোড্রামাটিক এ ছবিতে পরিচালক হিসেবে নিজের জাত চিনিয়ে দেন ইয়াশ চোপড়া। সেরা পরিচালক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ঘরে তোলেন তিনি। পার্শ্ব-চরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান রাখি। রাজেশ খান্না পান সেরা অভিনেতার মনোনয়ন। ছবির গানগুলো দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। ব্যবসাসফল এ ছবিতে রাজেশ খান্না-শর্মিলা ঠাকুরের অসাধারণ কিছু প্রেমের দৃশ্য রয়েছে যা ছবিটিকে চিরসবুজ ভালোবাসার কাব্য করে তুলেছে।
বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্রেমের ছবি ‘কাভি-কাভি’। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ছিল বাণিজ্যিকভাবে দারুণ সফল। তারকাবহুল এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, রাখি, শশী কাপুর, ওয়াহিদা রেহমান, সিমি গারেওয়াল, ঋষি কাপুর ও নিতু সিং। ছবির কাহিনি ছিল দুই প্রজন্মকে ঘিরে। কবি অমিত মালহোত্রা (অমিতাভ) ভালোবাসে একই কলেজের ছাত্রী পূজাকে(রাখি)। কিন্তু বাবা-মায়ের পছন্দে পূজার বিয়ে হয় স্থপতি বিজয় খান্নার (শশী কাপুর) সঙ্গে। বিয়ের রাতে বিজয় স্ত্রীকে উপহার দেয় তার প্রিয় কবি অমিতের লেখা বই ‘কাভি কাভি’। অমিত বাবার ব্যবসায় যোগ দেয় এবং বিয়ে করে অঞ্জলিকে (ওয়াহিদা রহমান)। বিয়ের আগে অঞ্জলি এক বিমানচালককে ভালোবাসতো এবং বিমানচালকের মৃত্যুর পর এক সন্তানের জন্ম দেয় সে। মেয়েটিকে নিঃসন্তান এক চিকিৎসক দম্পতির কাছে দত্তক দেয় এবং একথা অমিতকে কখনও সে বলেনি। মেয়েটির নাম পিংকি (নিতু সিং)। পিংকির সঙ্গে প্রেম হয় বিজয়-পূজার ছেলে ভিকির (ঋষি কাপুর)। পিংকি যখন জানতে পারে সে দত্তক সন্তান তখন আপন মায়ের খোঁজে হাজির হয় অঞ্জলি-অমিতের বাড়িতে। অঞ্জলি তাকে ভাইয়ের মেয়ে বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। প্রকাশ্যে সে পিংকির প্রতি স্নেহ দেখাতে পারে না। অঞ্জলি অমিতের একমাত্র কন্যার নাম সুইটি (নাসিম)। এদিকে পিংকির খোঁজে আসে ভিকি। কাজ নেয় অমিতের কনস্ট্রাকশন ফার্মে। ভিকির প্রেমে পড়ে সুইটি। সেই শহরে আসে বিজয় ও পূজা। বহু বছর পর আবার অমিতের সঙ্গে দেখা হয় পূজার। অন্যদিকে সুইটি-ভিকি-পিংকির সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে।
ছবিটিতে অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠে 'কাভি কাভি' কবিতার আবৃত্তি, লতা মঙ্গেশকার ও মুকেশের কণ্ঠে ‘কাভি কাভি’ গানটি অনন্য হয়ে ওঠে। অমিতাভ-রাখির প্রেমের দৃশ্যের অনবদ্য চিত্রায়ন রয়েছে এখানে। ছবিটির শুটিং হয়েছিল কাশ্মিরে। কাশ্মিরের অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায় ছবিটিতে।
বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি ফিল্মফেয়ার আসরে সেরা সংগীত, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা প্লেব্যাক গায়ক, সেরা গীতিকারসহ চারটি পুরস্কার জয় করে। অমিতাভ বচ্চন, রাখি, ওয়াহিদা রহমান এবং শশীকাপুর মনোনয়ন পান সেরা অভিনয়ের জন্য। এই ছবির মাধ্যমে প্রেমের গল্পের কথক হিসেবে নিজের পরিচিতি দৃঢ় করেন ইয়াশ চোপড়া।
ইয়াশ চোপড়ার নাম বললে যে সিনেমাটির নাম সবার ঠোঁটে চলে আসে সেটি ‘সিলসিলা’। ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, রেখা, জয়া বচ্চন ও সঞ্জীব কুমার। ছবির কাহিনিতে দেখা যায়, লেখক অমিত (অমিতাভ) ও চাঁদনি (রেখা) পরস্পরকে ভালোবাসে। কিন্তু দুর্ঘটনায় ভাই শেখরের (শশী কাপুর) মৃত্যু হলে ভাইয়ের সন্তানসম্ভবা প্রেমিকা শোভাকে (জয়া বচ্চন) বিয়ে করেন অমিত। শোকাহত চাঁদনি পারিবারিক পছন্দে বিয়ে করেন ডা. আনন্দকে (সঞ্জীব কুমার)। পরবর্তীতে আবার দেখা হয় অমিত ও চাঁদনির। আবার তারা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন যা তাদের দাম্পত্য জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। ইয়াশ চোপড়া পরিচালিত এ রোমান্টিক ছবিতে অমিতাভ বেশ কয়েকটি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। ছবির গানগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। ছবিতে অমিতাভ-রেখার প্রেমের দৃশ্যগুলো ছিল অনবদ্য। বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ট দৃশ্যেও দেখা যায় তাদের। কাহিনি, পরিচালনা, সংলাপ ও অভিনয়গুণে ‘সিলসিলা’ বলিউডের ক্ল্যাসিক হিসেবে গণ্য।
ইয়াশ চোপড়া পরিচালিত প্রেমের এ ছবিটিকে শ্রীদেবীর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি বলা চলে। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে অভিনয় করেন শ্রীদেবী, ঋষি কাপুর ও বিনোদ খান্না। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে চাঁদনির (শ্রীদেবী) প্রেমে পড়ে ধনীর পুত্র রোহিত (ঋষি কাপুর)। এক দুঘর্টনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে রোহিত। চাঁদনি যেন তার পরিবর্তে সুস্থ কোনো মানুষকে বিয়ে করে এই উদ্দেশ্যে তাকে প্রকাশ্যে অপমান করে রোহিত।
চাঁদনি চলে আসে মুম্বাইয়ে এবং চাকরি নেয়। তার বস ললিত (বিনোদ খান্না) তাকে পছন্দ করে এং বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রাজি হয় চাঁদনি। এদিকে সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে দেশে ফেরে রোহিত। বিদেশেই তার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল ললিতের। বন্ধু রোহিতকে সে আমন্ত্রণ জানায় নিজের বাড়িতে এবং পরিচয় করিয়ে দেয় হবু স্ত্রী চাঁদনির সঙ্গে।
রোমান্টিক এই ছবিটি ছিল ব্লকবাস্টার হিট। শ্রীদেবী পরিহিত সাদা কামিজ ও চুড়িদার খ্যাতি পেয়েছিল ‘চাঁদনি পোশাক’ নামে। গানগুলোও ছিল তুমুল জনপ্রিয়। ইয়াশরাজ ফিল্মসের ছবিটি সেরা জনপ্রিয় ছবি হিবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে। ফিল্মফেয়ার আসরে সেরা পরিচালকসহ সাতটি বিভাগে মনোনয়ন এবং একটিতে পুরস্কার জয় করে। শ্রীদেবী একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
ইয়াশ চোপড়া পরিচালিত সবচেয়ে চমকপ্রদ ও ভিন্নধর্মী প্রেমের ছবি হলো ‘লামহে’। অনিল কাপুর ও শ্রীদেবী অভিনীত ছবিটি বলিউডের অন্যতম সেরা প্রেমকাহিনি। ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির একটি বড় অংশ রাজস্থানে চিত্রায়িত।
লন্ডন থেকে রাজস্থানে ফেরে ধনী জমিদারপুত্র বীরেন(অনিল কাপুর)। প্রতিবেশী পল্লবীর(শ্রীদেবী) প্রেমে পড়ে একতরফা ভাবে। বীরেনের চেয়ে বয়সে বড় পল্লবী বিয়ে করে অন্য এক যুবককে। দুর্ঘটনায় পল্লবী ও তার স্বামীর মৃত্যুর পর তাদের মেয়ে পূজা প্রতিপালিত হয় বীরেনের প্রাসাদে। লন্ডন থেকে প্রতিবছর রাজস্থানে ফিরলেও বীরেন তাকে কখনও দেখেনি কারণ পল্লবীর মৃত্যু ও পূজার জন্ম একই দিনে। পূজা(শ্রীদেবী) বড় হয়। লন্ডন বেড়াতে যায়। প্রেমে পড়ে বীরেনের। অসমবয়সী এই দুই নরনারীর অসাধারণ প্রেমকাহিনির চিত্রায়ন ‘লামহে’। রাজস্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্যায়ন এখানে অনবদ্য। বীরেনের জীবন যেন মরুভূমির শূন্যতার প্রতিচ্ছবি। ছবির বিষয়বস্তু ছিল সেই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী ও অগ্রসর। ফলে ‘লামহে’ ভারতে সেই সময় বাণিজ্যিকভাবে খুব সফল হয়নি। কিন্তু যুক্তরাজ্যে ছবিটি দারুণ ব্যবসা করে। বাণিজ্যিকভাবে সফল না হয়েও ছবিটি ফিল্মফেয়ার আসরে সেরা ছবি, সেরা অভিনেত্রী (শ্রীদেবী), সেরা কমেডিয়ান (অনুপম খের), সেরা কাহিনি ও সেরা সংলাপের পুরস্কার জয় করে। সেরা পরিচালকের মনোনয়ন পান ইয়াশ চোপড়া। সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পান অনিল কাপুর। পার্শ্ব-চরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান ওয়াহিদা রহমান। সংগীত, পরিচালনা, অভিনয়, কাহিনি সব মিলিয়ে লামহে বলিউডের ক্ল্যাসিক হিসেবে গণ্য।
একটি ছবি কখনো কখনো বদলে দিতে পারে পুরো ইন্ডাস্ট্রির গতিধারা এবং একজন অভিনেতার জীবন। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ডার’ তেমনি একটি ছবি। ‘ডার’ ছবির মাধ্যমেই ইয়াশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে শাহরুখ খানের পথচলা শুরু হয়। এ ছবিতে খলনায়ককে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে তোলেন ইয়াশ চোপড়া। কাহিনি ছিল চমক জাগানিয়া।
অন্তর্মুখী ও আবেগপ্রবণ কলেজছাত্র রাহুল (শাহরুখ খান) ভালোবাসে সহপাঠী কিরানকে(জুহি চাওলা)। কিন্তু কিরান সে কথা জানে না। সে ভালোবাসে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুনীলকে(সানি দেওল)। সুনীলের সঙ্গে বিয়ে হয় কিরানের। কিন্তু রাহুল তার প্রতি ভালোবাসা ত্যাগ করতে পারে না। কিরানের প্রেমে আচ্ছন্ন রাহুল তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করতে থাকে। রোমান্টিক-থ্রিলার ধর্মী ছবিটিতে সাইকো প্রেমিকের চরিত্রে দুর্দান্ত ছিলেন শাহরুখ খান। ছবির গানগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। ছবিটি সুপারহিট হয়। সেরা জনপ্রিয় ছবি হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে। বেশ কযেকটি বিভাগে জয় করে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও। ‘ডার’ বলিউডে অ্যান্টিহিরোর ধারণা প্রতিষ্ঠিত করে এবং অভিনেতা হিসেবে শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারে যোগ করে বিশাল সাফল্য।
রোমান্টিক মিউজিক্যাল কমেডি ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। এতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন শাহরুখ খান, মাধুরী দিক্ষিত, কারিশমা কাপুর এবং অক্ষয় কুমার। পুরোপুরি প্রেমনির্ভর ছবিটিতে দেখা যায় একটি নৃত্যনাট্য দলের সদস্য রাহুল (শাহরুখ খান) ও নিশা (কারিশমা কাপুর)। রাহুলের নির্দেশিত মিউজিক্যাল ড্রামা দর্শক মহলে সমাদৃত। একতরফাভাবে রাহুলকে ভালোবাসে নিশা।
‘মায়া’ নামে নতুন নাটকের ঘোষণা দেয় রাহুল। কিন্তু মহড়ার সময় নিশার পা ভেঙ্গে যাওয়ায় কয়েক মাসের জন্য শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে সে। মায়া চরিত্রে আসে নতুন অভিনেত্রী পূজা (মাধুরী দিক্ষিত)। পূজা নৃত্যপাগল, কুশলী শিল্পী এবং কল্পনাবিলাসী। পূজাকে ভালোবাসে রাহুল। পূজাও অনুভব করে তাদের জন্মই হয়েছে পরস্পরকে ভালোবাসার জন্য। কিন্তু সমস্যা হলো পূজার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে ছোটবেলার বন্ধু অজয়ের সঙ্গে। কারণ শৈশবে বাবা-মাকে হারিয়ে অজয়দের বাড়িতেই প্রতিপালিত হয়েছে সে। ছবিটির সংলাপ, সংগীত ও কোরিওগ্রাফি অসাধারণ। মাধুরীর সৌন্দর্য যেভাবে প্রতিফলিত হয়েছে পর্দায় তা অনবদ্য। পরিচালক ইয়াশ চোপড়া এখানে ভালোবাসার যে রূপ রুপালি পর্দায় তুলে ধরেছেন তা একমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব। কারণ কুশলী পরিচালক হিসেবে তিনি দর্শককে বিশ্বাস করিয়েছেন ভালোবাসার জাদুতে। মাধুরী ও শাহরুখের প্রেমের দৃশ্যের দারুণ চিত্রায়ন রয়েছে ছবিতে যা এটিকে প্রেমের অমর গীতিকাব্যে পরিণত করেছে। ছবিটি ভারত ও ভারতের বাইরে তুমুল ব্যবসা করে। সেরা জনপ্রিয় ছবি, সেরা কোরিওগ্রাফি ও পার্শ্ব-চরিত্রে সেরা অভিনেত্রী (কারিশমা কাপুর) বিভাগে জয় করে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ফিল্মফেয়ার আসরে ৮টি বিভাগে পুরস্কার জয় করে। সেরা ছবি, সেরা অভিনেতা (শাহরুখ খান), সেরা অভিনেত্রী (মাধুরী দিক্ষিত), পার্শ্ব-চরিত্রে সেরা অভিনেতা (অক্ষয় কুমার), পার্শ্ব-চরিত্রে সেরা অভিনেত্রী (কারিশমা), সেরা সংলাপ (আদিত্য চোপড়া)সহ আরও কয়েকটি পুরস্কার জয় করে ছবিটি।
বস্তুত ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ হলো ইয়াশ চোপড়ার নির্মিত স্বপ্নময় প্রেমের সেরা শিল্পিত রূপ।
ইয়াশ চোপড়ার শেষ ছবি হিসেবে এ সিনেমাটির কথা বলতেই হয়। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান, ক্যাটরিনা কাইফ এবং আনুশকা শর্মা। আধুনিক সময়ের সম্পর্কেও চিরকালিন প্রেমের মূল সুরটি তুলে ধরেছেন এই নির্মাতা। ছবিটি মূলত লন্ডনের পটভূমিকায় নির্মিত। তবে ভারতের লাদাখে চিত্রায়িত দৃশ্যগুলোও অসাধারণ। চলচ্চিত্রে শাহরুখ-ক্যাটরিনার প্রেমের দৃশ্যের চিত্রায়ন ছিল অনবদ্য। ভারতে হিট এবং ভারতের বাইরে ব্লকবাস্টার হিট হয় ছবিটি। ফিল্মফেয়ার আসরে বেশ কয়েকটি বিভাগে পুরস্কার জয় করে নেয়। ইয়াশরাজ ফিল্মসের এই ছবি মুক্তি পায় ২০১২ সালের নভেম্বরে। এর আগেই ২০১২ সালের ২১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন চলচ্চিত্রে স্বপ্নময় প্রেমকাহিনির রূপকার ইয়াশ চোপড়া।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন